হুথিদের বিরুদ্ধে মার্কিন হামলা চেয়েছিলেন সৌদি যুবরাজ, ট্রাম্পের না

২৪ঘণ্টা অনলাইন: ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে মার্কিন বিমান হামলা চালানোর অনুরোধ জানিয়েছিলেন সৌদি আরবের ক্রাউন প্রিন্স ও প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন সালমান। তবে সৌদি যুবরাজের সেই অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম এক্সিওসকে দুই মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ১০ সেপ্টেম্বর ট্রাম্প ও মোহাম্মদ বিন সালমানের মধ্যে ফোনে এ বিষয়ে আলোচনা হয়। তবে হুথিদের বিরুদ্ধে সরাসরি সামরিক অভিযান চালানোর কোনো পরিকল্পনা এই মুহূর্তে নেই বলে সৌদি যুবরাজকে জানিয়ে দেন ট্রাম্প।
সৌদি যুবরাজের অনুরোধ প্রত্যাখ্যানের কারণ হিসেবে মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বর্তমানে হুথিদের বিরুদ্ধে সরাসরি সামরিক পদক্ষেপে যেতে আগ্রহী নয় ট্রাম্প প্রশাসন।
এ বিষয়ে রয়টার্স হোয়াইট হাউস এবং ওয়াশিংটনে সৌদি দূতাবাসের কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করলেও তারা মন্তব্য করতে রাজি হননি।
তবে এক্সিওসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সরাসরি সামরিক অভিযানে না গেলেও ইয়েমেনের সরকারি বাহিনী ও সৌদি আরবের সঙ্গে হুথিদের সাম্প্রতিক সংঘাত নিয়ে উদ্বিগ্ন ওয়াশিংটন। এ ইস্যুতে সৌদি আরবকে পরোক্ষভাবে সহযোগিতা করার বিষয়টি বিবেচনা করছে ট্রাম্প প্রশাসন।
এরই মধ্যে বৃহস্পতিবার মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) শীর্ষ কমান্ডার অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপারের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল রিয়াদে সৌদি কর্মকর্তাদের সঙ্গে জরুরি বৈঠক করেছে।
বৈঠকে মার্কিন কর্মকর্তারা জানান, ট্রাম্প প্রশাসনের বর্তমান অগ্রাধিকার ইরান এবং হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে পরিস্থিতি। এ কারণে একই সময়ে অন্য কোনো অঞ্চলে নতুন করে সামরিক অভিযান চালাতে চায় না ওয়াশিংটন।
ইয়েমেনে হুথি গোষ্ঠী ও সৌদি আরবের সংঘাতের সূত্রপাত ২০১৪ সালে ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধকে কেন্দ্র করে। পরের বছর ইরান-সমর্থিত হুথিরা রাজধানী সানা দখল করলে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট মনসুর আবদ-আল হাদি সৌদি আরবে পালিয়ে যান।
এরপর ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারকে পুনরায় ক্ষমতায় বসাতে ২০১৫ সালে সামরিক অভিযান শুরু করে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট।
বর্তমানে ইয়েমেনের উল্লেখযোগ্য একটি অংশ হুথিদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। অন্যদিকে সৌদি-সমর্থিত প্রেসিডেন্সিয়াল কাউন্সিল সরকার দেশের বাকি অংশের নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখেছে এবং আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিও পেয়েছে।
২০২২ সালে হুথি বিদ্রোহীদের সঙ্গে সৌদি আরবের যুদ্ধবিরতি হলেও সাম্প্রতিক সময়ে দুই পক্ষের সম্পর্কে আবারও উত্তেজনা বেড়েছে। গত জুলাইয়ে সানা বিমানবন্দরে হামলার পর পরিস্থিতি আরও তিক্ত হয়ে ওঠে।
