পেটে গুড়গুড় শব্দ নিয়ে চিন্তা!

২৪ঘণ্টা অনলাইন: কাজের মাঝেই হঠাৎ পেট থেকে বিকট শব্দ, অস্বস্তিতে পড়েছেন অনেকেই। অধিকাংশ মানুষ ভাবেন এটা নিছক খিদের লক্ষণ, কিন্তু আসল কারণ কিছুটা ভিন্ন।
এই শব্দের উৎস আমাদের পরিপাকনালি। মুখ থেকে খাবার পাকস্থলী হয়ে অন্ত্রে পৌঁছানোর এই পথটি বেশ নমনীয় ও স্থিতিস্থাপক। খাবার হজমের জন্য নালির পেশি ক্রমাগত সংকোচন-প্রসারণ করে, যাকে বলে পেরিস্টলসিস। পাকস্থলী-অন্ত্রে সবসময় কিছুটা তরল ও বাতাস থাকে, আর পেরিস্টলসিসের সময় এগুলো চলাচল করলেই শব্দ তৈরি হয়। চিকিৎসাশাস্ত্রে এর নাম বরবোরিগমি।
খাবার খাওয়ার পর পাকস্থলী ভরা থাকায় শব্দ কম হয়। কিন্তু ৪-৬ ঘণ্টা পর পাকস্থলী খালি হতে শুরু করলে তরল-বাতাসের প্রবাহ বেড়ে যায়, শব্দও বাড়ে। দীর্ঘক্ষণ না খেলে এই সমস্যা প্রকট হয়।
আরেকটি কারণ হরমোনজনিত। মার্কিন ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ হেলথের এক গবেষণা অনুযায়ী, পেট খালি থাকলে ঘ্রেলিন হরমোন নিঃসৃত হয়ে মস্তিষ্ককে খাবারের প্রয়োজনের বার্তা পাঠায়। তখন অন্ত্রের পেশি দ্রুত সংকুচিত-প্রসারিত হয়ে বাকি বাতাস-তরল সরাতে থাকে, ফলে শব্দ আরও জোরালো হয়।
কখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন?
মাঝেমধ্যে পেট ডাকা স্বাভাবিক। কিন্তু দিনের বেশিরভাগ সময় শব্দ হতে থাকলে, সঙ্গে পেটে মোচড়, বমি ভাব, খিদে কমে যাওয়া বা পেট ফাঁপার সমস্যা থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। ঘন ঘন মলত্যাগের তাগিদ, কোষ্ঠকাঠিন্য বা ডায়রিয়া বারবার হলে তা অন্ত্রের সমস্যার ইঙ্গিত হতে পারে। রক্তাল্পতা বা মলে রক্তের মতো লক্ষণ দেখা দিলে দেরি না করে ডাক্তার দেখানো উচিত। আইবিএস কিংবা লিভার-অগ্ন্যাশয়ের জটিলতা থেকেও এমন উপসর্গ হতে পারে।
