বাক্স্বাধীনতা যেন শালীনতার সীমা না ছাড়ায়: প্রধানমন্ত্রী

২৪ঘণ্টা অনলাইন: বাক্স্বাধীনতার চর্চা করতে গিয়ে যেন কেউ শালীনতার সীমা অতিক্রম না করেন—এ আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, রাজনৈতিক মতপার্থক্য ও প্রতিযোগিতা গণতন্ত্রের স্বাভাবিক অংশ হলেও ভিন্নমত যেন শত্রুতায় রূপ না নেয়, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।
বৃহস্পতিবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের সমাপনী বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। তার বক্তব্যের সময় সংসদ সদস্যরা টেবিল চাপড়িয়ে সমর্থন জানান।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, কোনো বিবেকবান মানুষ বা দেশপ্রেমিক রাজনীতিবিদ চান না দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতি গালাগালির সংস্কৃতিতে পরিণত হোক। এ জন্য দল-মত নির্বিশেষে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, পারিবারিক পরিবেশে যেসব শব্দ ব্যবহার করতে আমরা স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি না, সেসব শব্দ জনপরিসরে কেন ব্যবহার করা হবে। গালাগালি সংস্কৃতির বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, গণতন্ত্রের পক্ষের শক্তির মধ্যে বিভেদ ও বিরোধ তৈরি হলে তা বিতাড়িত ফ্যাসিস্ট শক্তিকে পুনরুজ্জীবিত করার সুযোগ করে দিতে পারে। তাই ভবিষ্যৎ প্রজন্মের স্বার্থে শহীদদের প্রতি দায়িত্বের অংশ হিসেবে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে রাষ্ট্র সংস্কারের কাজ চালিয়ে যেতে হবে।
তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় ভিন্নমত ও রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা থাকবেই। তবে সেই ভিন্নমত যেন শত্রুতায় পরিণত না হয়, সেদিকে সবাইকে খেয়াল রাখতে হবে।
সংসদকে সব কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রবিন্দু করার প্রত্যয় ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান অধিবেশনে সরকার ও বিরোধী পক্ষ দেশের মানুষের স্বার্থে বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করেছে এবং কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার চেষ্টা করেছে। জাতীয় সংসদকে কার্যকর ও প্রাণবন্ত রাখতে ভূমিকা রাখায় তিনি সংসদ সদস্যদের ধন্যবাদ জানান।
জনগণের প্রত্যাশার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সংসদে আলোচনা ও কার্যকর উদ্যোগের মাধ্যমে জনগণের সমস্যা কিছুটা হলেও লাঘব হবে এবং তাদের জন্য শান্তি ও সমৃদ্ধি নিশ্চিত হবে—এটাই সবার প্রত্যাশা।
দেশের অর্থনীতি ও ঋণখেলাপি পরিস্থিতি প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী অভিযোগ করেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট দেশ ছাড়ার আগে আওয়ামী লীগ সরকারের দুঃশাসন, দুর্নীতি, লুটপাট ও অর্থ পাচারের কারণে বাংলাদেশকে ঋণখেলাপির অপবাদ বহন করতে হয়েছে।
তার দাবি, বর্তমান বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর বিভিন্ন উদ্যোগের ফলে ঋণখেলাপির অনুপাত ৩৫ দশমিক ৫ শতাংশ থেকে কমে ৩২ দশমিক ৬ শতাংশে নেমে এসেছে। এই পরিস্থিতির আরও উন্নতির মাধ্যমে বাংলাদেশকে ঋণখেলাপির অভিশাপ থেকে মুক্ত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিদেশি ঋণের ভারে জর্জরিত একটি রাষ্ট্র বর্তমান সরকার পেয়েছে। গত পাঁচ মাসে বিদেশি ঋণের আসল ও সুদ বাবদ রেকর্ড ২০৪ কোটি ৭৬ লাখ মার্কিন ডলার পরিশোধ করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
এর আগে বিকেল ৩টায় ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে সংসদের অধিবেশন শুরু হয়। মাগরিবের নামাজের পর স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম সংসদ অধিবেশন সমাপ্তি সংক্রান্ত রাষ্ট্রপতির আদেশ পড়ে শোনান।
সংসদের রেওয়াজ অনুযায়ী সমাপনী দিনে প্রথমে বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান এবং পরে সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বক্তব্য দেন।
