রাঙামাটির ঝুলন্ত সেতু ফের দৃশ্যমান

২৪ঘণ্টা অনলাইন : টানা ছয় দিন কাপ্তাই হ্রদের পানিতে ডুবে থাকার পর অবশেষে ভেসে উঠেছে রাঙামাটির অন্যতম প্রধান পর্যটন আকর্ষণ ঝুলন্ত সেতু। ৫ সেপ্টেম্বর সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রাঙামাটি পর্যটন করপোরেশনের ম্যানেজার আলোক বিকাশ চাকমা।
তিনি জানান, ৪ সেপ্টেম্বর বিকেলের দিকে সেতু এলাকা থেকে পানি সরে যায়। বর্তমানে সেতুটির সংস্কারকাজ চলছে। আপাতত পর্যটকদের কাছ থেকে সেতুতে চলাচলের জন্য কোনো প্রবেশমূল্য নেওয়া হচ্ছে না।
আলোক বিকাশ চাকমা বলেন, সেতু থেকে পানি সরে যাওয়ার বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। কর্তৃপক্ষ নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের নোটিশ দিলে পর্যটকদের জন্য আবার টিকিট চালু করা হবে।
এর আগে কয়েক দিনের টানা বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে কাপ্তাই হ্রদের পানি অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়। এতে গত ২৯ আগস্ট ঝুলন্ত সেতুটি পানিতে ডুবে যায়। একই সময়ে জেলার বাঘাইছড়ি উপজেলার বিভিন্ন নিম্নাঞ্চলও প্লাবিত হয়। নিরাপত্তার কারণে ওই দিন দুপুর থেকেই সেতুতে পর্যটকদের প্রবেশ ও চলাচল বন্ধ করে দেয় কর্তৃপক্ষ।
পানির চাপ কমাতে ওই দিন রাত ৮টার দিকে কাপ্তাই বাঁধের স্পিলওয়ের প্রতিটি গেট ছয় ইঞ্চি করে খুলে দেওয়া হয়। এতে প্রায় ৯ হাজার কিউসেক পানি কর্ণফুলী নদীতে ছাড়া শুরু হয়। পরে রাত ১০টা ৩৫ মিনিটে ১৬টি গেট দিয়ে প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ১৮ হাজার কিউসেক পানি নিষ্কাশন করা হয়।
এরপর ৩০ আগস্ট সকাল ১০টা থেকে প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ৫৮ হাজার কিউসেক পানি কর্ণফুলী নদীতে ছাড়া শুরু হয়। এই পানি নিষ্কাশন কার্যক্রম এখনো অব্যাহত রয়েছে।
রাঙামাটি সদর উপজেলার তবলছড়ি এলাকায় পর্যটন করপোরেশন ১৯৮৬ সালে ৩৩৫ ফুট দীর্ঘ এই ঝুলন্ত সেতু নির্মাণ করে। দুই পাহাড়ের মাঝখানে দুটি পিলারের ওপর নির্মিত দৃষ্টিনন্দন সেতুটি জল ও স্থল—দুই পথেই সহজে যাওয়া যায়।
দীর্ঘদিন ধরে সেতুটি রাঙামাটির অন্যতম পরিচিত পর্যটন প্রতীক হিসেবে দেশ-বিদেশের পর্যটকদের আকর্ষণ করে আসছে। স্থানীয়ভাবে এটি ‘সিম্বল অব রাঙামাটি’ নামেও পরিচিত।
