খাদ্যাভ্যাসেই লিভার থাকবে সুস্থ

২৪ঘণ্টা অনলাইন : শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গগুলোর একটি লিভার। শরীরে প্রবেশ করা বিভিন্ন উপাদান প্রক্রিয়াজাত করা, রক্ত থেকে ক্ষতিকর পদার্থ অপসারণ, পিত্তরস তৈরি ও রক্ত জমাট বাঁধার মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজে ভূমিকা রাখে এটি। তাই লিভার সুস্থ রাখতে ওষুধের পাশাপাশি প্রতিদিনের খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাপনের দিকে নজর দেওয়া জরুরি।
অ্যালকোহল, অতিরিক্ত চর্বিযুক্ত ও প্রক্রিয়াজাত খাবার এবং অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন লিভারের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করতে পারে। তবে কোনো একটি খাবার লিভারকে সরাসরি ‘ডিটক্স’ বা পরিষ্কার করে দেয়—এমন শক্ত বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। বরং সুষম খাদ্যাভ্যাস লিভারের স্বাভাবিক কার্যক্রম বজায় রাখতে সহায়তা করে।
যেসব খাবার রাখতে পারেন খাদ্যতালিকায়
রসুন: রসুনে সালফারযুক্ত যৌগ ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে। পরিমিত রসুন খাওয়া স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের অংশ হতে পারে।
সাইট্রাস ফল: কমলা, মাল্টা, জাম্বুরা ও লেবুর মতো ফলে ভিটামিন সি ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকে। নিয়মিত পরিমিত ফল খাওয়া সামগ্রিক স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী।
ব্রোকলি ও অন্যান্য সবজি: ব্রোকলি, ফুলকপি, বাঁধাকপি ও অন্যান্য সবজিতে ফাইবার ও বিভিন্ন উদ্ভিজ্জ পুষ্টি উপাদান রয়েছে। নিয়মিত শাক-সবজি খাওয়া লিভারের স্বাস্থ্যের জন্যও সহায়ক।
হলুদ: হলুদে থাকা কারকিউমিনের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও প্রদাহবিরোধী বৈশিষ্ট্য নিয়ে গবেষণা হয়েছে। তবে এটি কোনো লিভার রোগের চিকিৎসার বিকল্প নয়।
আখরোট: আখরোটে স্বাস্থ্যকর চর্বি, ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে। পরিমিত বাদাম স্বাস্থ্যকর খাদ্যতালিকার অংশ হতে পারে।
বিট ও গাজর: বিটে ফাইবার ও বিভিন্ন অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে। অন্যদিকে গাজরে বিটা-ক্যারোটিনসহ বিভিন্ন ক্যারোটিনয়েড থাকে। নিয়মিত পরিমিত সবজি খাওয়া সামগ্রিক স্বাস্থ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
গ্রিন টি: গ্রিন টিতে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ক্যাটেচিন রয়েছে। তবে অতিরিক্ত মাত্রায় গ্রিন টি-এক্সট্র্যাক্ট গ্রহণের সঙ্গে লিভারের ক্ষতির ঘটনা দেখা গেছে। তাই চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া এ ধরনের সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ না করাই ভালো।
আপেল: আপেলে পেকটিনসহ ফাইবার রয়েছে, যা হজম ও অন্ত্রের স্বাস্থ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিদিন পরিমিত ফল খাওয়া ভালো অভ্যাস।
অ্যাভোকাডো: এতে স্বাস্থ্যকর অসম্পৃক্ত চর্বি, ফাইবার ও বিভিন্ন পুষ্টি উপাদান রয়েছে। পরিমিত পরিমাণে অ্যাভোকাডো সুষম খাদ্যের অংশ হতে পারে।
খাবারের পাশাপাশি জীবনযাপনেও নজর দিন :
লিভার ভালো রাখতে কোনো একটি খাবার বা ‘ডিটক্স’ পণ্যের ওপর নির্ভর না করে সামগ্রিক জীবনযাপনে পরিবর্তন আনা জরুরি। অতিরিক্ত অ্যালকোহল এড়িয়ে চলা, স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখা, নিয়মিত ব্যায়াম করা এবং অতিরিক্ত চিনি ও প্রক্রিয়াজাত খাবার কম খাওয়া গুরুত্বপূর্ণ।
লিভারের রোগ, অস্বাভাবিক লিভার এনজাইম বা অন্য কোনো শারীরিক সমস্যা থাকলে শুধু খাবারের মাধ্যমে তা নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করা উচিত নয়। এ ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।
