নানক-নাছিরের ফোনালাপ ট্রাইব্যুনালে

২৪ঘণ্টা অনলাইন : জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক মন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক ও চট্টগ্রামের সাবেক মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীনের ফোনালাপ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে উপস্থাপন করেছে প্রসিকিউশন। কথোপকথনে মুরাদপুরে নিহত একজনকে নিজেদের লোক দাবি করে তার জানাজা আয়োজনের মাধ্যমে ঘটনাটিকে ‘ইস্যু’ করার নির্দেশ দেওয়ার কথা উঠে এসেছে।
৯ আগস্ট ট্রাইব্যুনাল-২-এ মামলার তৃতীয় দিনের যুক্তিতর্কে এই ফোনালাপ উপস্থাপন করা হয়। বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল ফোনালাপের বিভিন্ন অংশ শোনেন।
প্রসিকিউশনের দাবি, ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই নানক চট্টগ্রামের তৎকালীন মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীনকে ফোন করেন। কথোপকথনের শুরুতে আওয়ামী লীগের তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরও নাছিরের সঙ্গে কথা বলেন।
ফোনালাপে চট্টগ্রামের পরিস্থিতি সম্পর্কে নাছিরকে বলতে শোনা যায়, মুরাদপুরে সংঘর্ষ চলছে এবং সেখানে তিনজন নিহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে একজনকে নিজেদের লোক বলে দাবি করেন তিনি। জবাবে নানক ওই ব্যক্তির জানাজা আয়োজন করে বিষয়টিকে ‘ইস্যু’ করার কথা বলেন।
ফোনালাপে নানককে বলতে শোনা যায়, ‘আমাদের যেটা মারা গেছে, সেটার জানাজা-টানাজা করেন। ওইটাকে ইস্যু করেন।’ পরে তিনি আবারও বিষয়টি সামনে আনার নির্দেশ দেন এবং সতর্ক থাকার কথা বলেন।
নাছির জানান, নিহত ব্যক্তির মরদেহ মেডিকেলে পাঠানো হয়েছে এবং পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। একই সঙ্গে চট্টগ্রামের বেশিরভাগ এলাকা নিয়ন্ত্রণে থাকার দাবিও করেন তিনি।
ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে কথোপকথনের সময়ও নাছির চট্টগ্রামের পরিস্থিতি সম্পর্কে অবহিত করেন। তিনি মুরাদপুরকে সংঘর্ষের মূল স্থান হিসেবে উল্লেখ করে দাবি করেন, শহরের অন্য এলাকাগুলো নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন। এ সময় প্রসিকিউশনের অন্য সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন। প্রসিকিউটর তামিম জানান, এ মামলায় তাদের আরও দুই দিন যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করার কথা রয়েছে। এরপর রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবীরা তাদের বক্তব্য তুলে ধরবেন।
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের সাত নেতার বিরুদ্ধে মামলাটি চলছে। ওবায়দুল কাদের ছাড়া অন্য আসামিরা হলেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ, সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল, ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক ওয়ালি আসিফ ইনান।
মামলার সব আসামিই বর্তমানে পলাতক রয়েছেন।
