মার্কিন সামরিক জোটে ক্ষুব্ধ উত্তর কোরিয়া

২৪ঘণ্টা অনলাইন : যুক্তরাষ্ট্র, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার ক্রমবর্ধমান সামরিক সহযোগিতাকে এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে আখ্যা দিয়েছে উত্তর কোরিয়া। পিয়ংইয়ংয়ের দাবি, এই তিন দেশের সামরিক জোট আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নষ্ট করে নতুন নিরাপত্তা সংকট তৈরি করছে।
৪ আগস্ট তুরস্কের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আনাদোলু এজেন্সির প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা কোরিয়ান সেন্ট্রাল নিউজ এজেন্সি (কেসিএনএ)-এর বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশটির এক সামরিক ভাষ্যকার অভিযোগ করেছেন যে, যুক্তরাষ্ট্র, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়া ধারাবাহিক যৌথ সামরিক মহড়ার মাধ্যমে তাদের যুদ্ধ সক্ষমতা বাড়িয়ে চলেছে। এর অংশ হিসেবে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন রিম অব দ্য প্যাসিফিক (রিমপ্যাক) নৌ-মহড়ারও সমালোচনা করা হয়েছে।
উত্তর কোরিয়ার দাবি, চলতি বছরের রিমপ্যাক মহড়ায় ৩০ হাজারের বেশি সেনা, ৩০টিরও বেশি যুদ্ধজাহাজ, পাঁচটি সাবমেরিন এবং প্রায় ১৯০টি সামরিক বিমান অংশ নিয়েছে। পিয়ংইয়ং এই মহড়াকে ‘আগ্রাসী’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার সমর্থনে এ অঞ্চলে সামরিক প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছে।
এছাড়া যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার যৌথ বিমান ও রসদ মহড়া, জাপানে মার্কিন সামরিক কমান্ড কাঠামো আরও শক্তিশালী করার উদ্যোগ এবং উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা মোতায়েনের পরিকল্পনারও কড়া সমালোচনা করেছে উত্তর কোরিয়া।
দেশটি সতর্ক করে বলেছে, তাদের বিরুদ্ধে নতুন মাত্রার যেকোনো সামরিক হুমকির ‘কঠোর জবাব’ দেওয়া হবে।
এদিকে, উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক সাইবার হামলার অভিযোগও প্রত্যাখ্যান করেছে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এক মুখপাত্র এসব অভিযোগকে ‘ভিত্তিহীন’ ও ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে দাবি করেন।
তার অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্র সাইবার কমান্ড সম্প্রসারণ, যৌথ সামরিক মহড়া এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক সামরিক প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে সাইবার জগৎকে ক্রমেই সামরিকীকরণ করছে। ফলে ডিজিটাল অঙ্গনে উত্তেজনা বৃদ্ধির জন্য যুক্তরাষ্ট্রই দায়ী, উত্তর কোরিয়া নয়।
পিয়ংইয়ং জানিয়েছে, পশ্চিমা দেশগুলোর চাপ ও নিষেধাজ্ঞার মুখেও নিজেদের জাতীয় নিরাপত্তা ও সার্বভৌম স্বার্থ রক্ষায় সব ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে।
