আওয়ামী লীগ ইস্যুতে কড়া বার্তা নাহিদের

২৪ঘণ্টা অনলাইন : জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-র আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ মো. নাহিদ ইসলাম বলেছেন, আওয়ামী লীগকে রাজনৈতিকভাবে পুনর্বাসনের কোনো উদ্যোগ নেওয়া হলে তার বিরুদ্ধে প্রতিরোধের সূচনা হবে উত্তরা থেকেই।
১৯ জুলাই রাজধানীর উত্তরার মীর মুগ্ধ মঞ্চে আয়োজিত ‘রক্তাক্ত জুলাই’ শীর্ষক এক স্মরণসভায় তিনি এ কথা বলেন। জুলাই আন্দোলনে নিহত ও আহতদের স্মরণে এনসিপি ঢাকা মহানগর উত্তর এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
নাহিদ ইসলাম বলেন, “যারা দেশ ছেড়ে পালিয়ে গেছে, তারা আর ফিরে আসে না। সাহস থাকলে পালিয়ে না গিয়ে বিচারের মুখোমুখি হতে পারত। যদি আওয়ামী লীগের পুনর্বাসনের চেষ্টা করা হয়, তাহলে উত্তরা থেকেই প্রতিরোধ গড়ে উঠবে।”
তিনি দাবি করেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে উত্তরা ছিল অন্যতম প্রধান প্রতিরোধকেন্দ্র। সেই আন্দোলনের স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, “উত্তরা ও যাত্রাবাড়ী থেকে গণভবনমুখী ঐতিহাসিক পদযাত্রা শুরু হয়েছিল। সেই আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশ ছাড়তে বাধ্য হন। উত্তরার অবদান জাতি কখনও ভুলবে না।”
দুই বছর আগে একই দিনে তাকে গুম করা হয়েছিল বলেও অভিযোগ করেন নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, “সেদিন অনেক মানুষকে গুম করা হয়েছিল। দুই বছর পরও আমাদের প্রধান দাবি হচ্ছে স্বৈরাচার ও তার সহযোগীদের বিচার। বিচার না হলে ভবিষ্যতেও স্বৈরাচার মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে পারে।”
বিএনপির সমালোচনা করে এনসিপি আহ্বায়ক বলেন, জুলাই আন্দোলনের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের পথে এখন বিএনপিই বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তিনি দাবি করেন, বিএনপি তাদের ঘোষিত ৩১ দফা কর্মসূচি থেকে সরে এসেছে এবং জুলাই সনদ বাস্তবায়নে আন্তরিক নয়।
তিনি বলেন, “নোট অব ডিসেন্টের রাজনীতি বাদ দিয়ে গণভোট ও গণরায়ের ভিত্তিতে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করতে হবে। সংবিধান সংশোধনের আগে বিএনপির অবস্থানেরও সংশোধন প্রয়োজন।”
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সাম্প্রতিক বক্তব্যেরও সমালোচনা করেন নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, “প্রতিবেশী বদলানো যায় না—এ কথা ঠিক। কিন্তু যে প্রতিবেশী আমার পরিবারের সদস্যদের হত্যার সঙ্গে জড়িত, তার সঙ্গে স্বাভাবিক সম্পর্ক রাখা কঠিন।”
চাঁদাবাজি ও মাদকমুক্ত উত্তরা গড়ে তুলতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বানও জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন এনসিপি ঢাকা মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব। এতে শহীদ পরিবারের সদস্য, জুলাই আন্দোলনের আহত যোদ্ধা এবং দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা অংশ নেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন শহীদ জাবির ইব্রাহিমের মা রোকেয়া বেগম, জাতীয় যুবশক্তির সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার ফরহাদ সোহেল এবং জাতীয় ছাত্রশক্তির সাধারণ সম্পাদক আবু বকর মজুমদার।
