মানসিক চাপে ডায়াবেটিসের শঙ্কা

২৪ঘন্টা অনলাইন : বর্তমান ব্যস্ত জীবনযাত্রায় মানসিক চাপ অনেকের নিত্যসঙ্গী। চিকিৎসকদের মতে, দীর্ঘদিনের মানসিক চাপ শুধু মানসিক স্বাস্থ্যের নয়, শারীরিক নানা সমস্যারও কারণ হতে পারে। হজমের সমস্যা, মাইগ্রেন, ওজন বৃদ্ধি, উচ্চ রক্তচাপ ও হৃদ্রোগের পাশাপাশি এটি রক্তে শর্করার মাত্রাও বাড়িয়ে দিতে পারে।
তবে শুধু মানসিক চাপ থেকেই ডায়াবেটিস হয় না। চিকিৎসকদের মতে, দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়াতে পারে, বিশেষ করে যাদের আগে থেকেই ঝুঁকি রয়েছে।
ডায়াবেটিস বিশেষজ্ঞদের ভাষ্য, ডায়াবেটিসের পেছনে জিনগত কারণ, অনিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাস, স্থূলতা ও শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা বড় ভূমিকা রাখে। তবে দীর্ঘদিন মানসিক চাপে থাকলে শরীরে কর্টিসল, অ্যাড্রেনালিন ও গ্রোথ হরমোনের মাত্রা বেড়ে যায়। এসব হরমোন লিভার থেকে বেশি গ্লুকোজ নিঃসরণ ঘটায় এবং কোষে ইনসুলিনের কার্যকারিতা কমিয়ে দেয়। ফলে রক্তে শর্করার মাত্রা বেড়ে যেতে পারে।
বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, একই খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাপন বজায় রাখার পরও দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপের কারণে অনেকের রক্তে শর্করার মাত্রা বেড়েছে। চাপ যদি সাময়িক হয়, তবে সাধারণত সমস্যা দীর্ঘস্থায়ী হয় না। কিন্তু দীর্ঘ সময় ধরে মানসিক চাপ থাকলে শরীরে প্রদাহ বাড়ে, ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স তৈরি হয় এবং টাইপ-২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়।
চিকিৎসকদের মতে, টাইপ-২ ডায়াবেটিস সাধারণত একক কোনো কারণে হয় না। দীর্ঘক্ষণ বসে কাজ করা, শারীরিক পরিশ্রমের অভাব, অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত খাবার খাওয়া এবং স্থূলতা বিশেষ করে পেটের অতিরিক্ত মেদ এ রোগের প্রধান ঝুঁকির কারণ। মানসিক চাপ এসব ঝুঁকিকে আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।
মানসিক চাপ কমানোর উপায়
- নিয়মিত হাঁটাহাঁটি ও ব্যায়াম করুন।
- যোগব্যায়াম বা মেডিটেশনের অভ্যাস গড়ে তুলুন।
- পর্যাপ্ত ও নিরবচ্ছিন্ন ঘুম নিশ্চিত করুন।
- সুষম খাদ্য গ্রহণ করুন এবং প্রক্রিয়াজাত খাবার কম খান।
পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটান এবং প্রয়োজন হলে মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।
চিকিৎসকদের মতে, মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণে থাকলে ইনসুলিন আরও কার্যকরভাবে কাজ করতে পারে। ফলে রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখা সহজ হয় এবং টাইপ-২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকিও কমে।
