সীমানা হার মানল মানবিকতায়

২৪ঘন্টা অনলাইন : এক বছর। দীর্ঘ অপেক্ষা। আদালত, কারাগার আর আইনি লড়াই পেরিয়ে অবশেষে এক হলো একটি পরিবার। জন্মের সাত মাস পর প্রথমবার বাবার কোলে উঠল ছোট্ট ‘আপন’। সীমান্তের কাঁটাতার তাদের আলাদা করেছিল, কিন্তু শেষ পর্যন্ত জিতেছে মানবিকতাই।
৮ জুলাই বিকেলে চাঁপাইনবাবগঞ্জের সোনামসজিদ স্থলবন্দর দিয়ে মো. দানেশ শেখ, তার স্ত্রী সুইটি বিবি এবং দুই সন্তান কুরবান শেখ ও ইমাম হোসেনকে আনুষ্ঠানিকভাবে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)-এর কাছে হস্তান্তর করে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।
সবচেয়ে আবেগঘন মুহূর্তটি ছিল দানেশ শেখের জন্য। কারণ, ছোট ছেলে ‘আপন’-এর জন্ম হয়েছিল তার অনুপস্থিতিতে। বাবাকে না দেখেই সাত মাস কেটেছে শিশুটির। বুধবার প্রথমবার সন্তানের মুখোমুখি হন তিনি।
ঘটনার শুরু ২০২৫ সালের জুনে। দিল্লির রোহিণী এলাকা থেকে পরিচয় যাচাইয়ের নামে পরিবারটিকে আটক করে পুলিশ। পরিচয়পত্র দেখানো হলেও তাদের বাংলাদেশি দাবি করে বিএসএফ কুড়িগ্রাম সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে ঠেলে দেয়। তখন দানেশের স্ত্রী অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন।
বাংলাদেশে প্রবেশের পর তারা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হেফাজতে যান। পরে আদালতের নির্দেশে কারাগারে পাঠানো হয়। এ সময় অন্তঃসত্ত্বা সুইটি বিবির প্রসবের সময় ঘনিয়ে আসে।
পরে কলকাতা হাইকোর্ট পরিবারটিকে ভারতীয় নাগরিক হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে ফিরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেন। চাঁপাইনবাবগঞ্জের আদালতও একই মত দেন। পরে বিষয়টি ভারতের সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত গড়ায়।
আদালতের নির্দেশে গত বছরের ডিসেম্বরে সুইটি বিবি ভারতে ফিরে যান। চলতি বছরের জানুয়ারিতে তার কোলজুড়ে আসে ছেলে 'আপন'। কিন্তু দানেশসহ পরিবারের অন্য সদস্যদের ফেরত নেওয়া হয়নি। ফলে নবজাতকের সঙ্গে বাবার দেখা হওয়ার সুযোগও হয়নি।
অবশেষে দীর্ঘ আইনি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শেষে পরিবারের বাকি সদস্যদেরও ভারতে ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এক বছর পর মিলেছে স্বামী-স্ত্রী, আর সাত মাস পর বাবার বুকে আশ্রয় পেয়েছে সন্তান।
এই ঘটনা আবারও মনে করিয়ে দিল, রাষ্ট্রের সীমান্ত মানুষকে আলাদা করতে পারে, কিন্তু রক্তের সম্পর্ককে নয়। একটি শিশুর কাছে সবচেয়ে বড় পরিচয় কোনো দেশের নয়—তার বাবার কোল, আর মায়ের নিরাপদ আশ্রয়।
