বসে থাকার অভ্যাসে বাড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁকি

২৪ঘণ্টা অনলাইন: কর্মক্ষেত্রে দীর্ঘক্ষণ বসে কাজ করা, অবসরে টিভি দেখা কিংবা ঘণ্টার পর ঘণ্টা মোবাইল ফোন ব্যবহার—আধুনিক জীবনের এসব অভ্যাস ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়াতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছে নতুন এক গবেষণা। গবেষকদের মতে, দীর্ঘ সময় নিষ্ক্রিয় থাকার পরিবর্তে সামান্য শারীরিক নড়াচড়াও স্বাস্থ্যঝুঁকি কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
সম্প্রতি ‘প্লস মেডিসিন’ সাময়িকীতে প্রকাশিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, দীর্ঘ সময় একটানা বসে থাকা ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়া এবং ক্যান্সারজনিত মৃত্যুর ঝুঁকির সঙ্গে সম্পর্কিত। গবেষণায় যুক্তরাজ্যের ইউকে বায়োব্যাংকের ৯১ হাজারের বেশি মানুষের তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়। অংশগ্রহণকারীদের প্রায় ১২ বছর ধরে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছিল।
গবেষণার ফলাফলে দেখা যায়, যারা দীর্ঘ সময় বসে থাকেন তাদের মধ্যে ক্যান্সারের ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি। বিশেষ করে একটানা বসে থাকার প্রতি অতিরিক্ত এক ঘণ্টার জন্য ক্যান্সারজনিত মৃত্যুর ঝুঁকি প্রায় ১০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে বলে গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে।
গবেষকদের মতে, কোলোরেক্টাল, স্তন, লিভার, কিডনি, অগ্ন্যাশয়, ডিম্বাশয়, খাদ্যনালী ও থাইরয়েড ক্যান্সারের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি নিষ্ক্রিয় জীবনযাপনের সম্পর্ক পাওয়া গেছে।
অন্যদিকে, প্রতিদিনের কিছু সাধারণ শারীরিক কাজ ঝুঁকি কমাতে সহায়ক হতে পারে। যেমন—ঘরের কাজ, থালা-বাসন ধোয়া, ইস্ত্রি করা কিংবা হালকা হাঁটার মতো কর্মকাণ্ড ক্যান্সারজনিত মৃত্যুঝুঁকি কমানোর সঙ্গে সম্পর্কিত বলে গবেষণায় দেখা গেছে। এমনকি প্রতিদিন মাত্র পাঁচ মিনিটের উচ্চমাত্রার শারীরিক ব্যায়ামও ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমাতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের মেমোরিয়ালকেয়ার টড ক্যান্সার ইনস্টিটিউটের হেমাটোলজিস্ট ও অনকোলজিস্ট ডা. ডেভিড ইয়াশার বলেন, দীর্ঘ সময় নিষ্ক্রিয় থাকলে ওজন বৃদ্ধি ও স্থূলতার ঝুঁকি বাড়ে, যা বিভিন্ন ধরনের ক্যান্সারের অন্যতম কারণ হিসেবে বিবেচিত। অতিরিক্ত চর্বি শরীরে দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ সৃষ্টি করতে পারে, যা ক্যান্সার কোষের বিকাশে সহায়ক ভূমিকা রাখে।
তবে গবেষকরা সতর্ক করে বলেছেন, এটি একটি পর্যবেক্ষণভিত্তিক গবেষণা। ফলে দীর্ঘক্ষণ বসে থাকাই সরাসরি ক্যান্সারের কারণ—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই। বিষয়টি আরও নিশ্চিত করতে ভবিষ্যতে বিস্তৃত গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে।
ওপেন ইউনিভার্সিটির অ্যাপ্লাইড স্ট্যাটিস্টিকসের এমেরিটাস অধ্যাপক কেভিন ম্যাককনওয়ে বলেন, গবেষণার ফলাফল গুরুত্বপূর্ণ হলেও ক্যান্সারের সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ বসে থাকার সরাসরি সম্পর্ক নিশ্চিত করতে আরও গবেষণা প্রয়োজন।
