প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম চালু করল পিকেএসএফ

২৪ঘণ্টা অনলাইন : স্বল্পআয়ের জনগোষ্ঠীর রোগ প্রতিরোধ, ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য ব্যয় কমানো এবং স্বাস্থ্যঝুঁকি মোকাবিলার সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে চালু করেছে পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ)।
১ জুন রাজধানীর আগারগাঁওয়ে পিকেএসএফ ভবন-১-এ আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পিকেএসএফের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মো. ফজলুল কাদের।
অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, টেকসই দারিদ্র্য বিমোচন, মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের বিকাশের জন্য সুস্থ জনগোষ্ঠী অপরিহার্য। ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করা গেলে তারা আরও উৎপাদনশীল ও স্বাবলম্বী হতে পারবেন। অন্যদিকে, অসুস্থতার কারণে চিকিৎসা ব্যয় বৃদ্ধি পরিবারগুলোকে আর্থিক সংকটে ফেলে এবং উদ্যোক্তাদের আয় ও উৎপাদনশীলতা কমিয়ে দেয়।
তিনি বলেন, বিশ্বের অন্যান্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশে ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য ব্যয়ের হার অনেক বেশি। এ ব্যয় কমাতে প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
মো. ফজলুল কাদের জানান, আর্থিক অন্তর্ভুক্তির পাশাপাশি পিকেএসএফ দীর্ঘদিন ধরে অংশীদার সংগঠনগুলোর মাধ্যমে বিভিন্ন অ-আর্থিক উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। সরকারের স্বাস্থ্য, পুষ্টি ও মাতৃ-স্বাস্থ্য নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এ প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবা কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, উদ্যোক্তাদের একটি সুস্থ কর্মশক্তিতে পরিণত করতে পিকেএসএফ তার অংশীদার সংগঠনগুলোকে প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম চালুর জন্য উৎসাহিত করছে। এ কর্মসূচিতে ব্যয়কে খরচ নয়, বরং ভবিষ্যতের জন্য বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচনা করার আহ্বান জানান তিনি।
প্রাথমিক পর্যায়ে পিকেএসএফের ৩৯টি অংশীদার সংগঠনের মাধ্যমে প্রায় ৬ লাখ ৮০ হাজার সদস্য ও তাদের পরিবারের সদস্যরা এ কর্মসূচির আওতায় আসবেন।
কর্মসূচিতে গর্ভবতী নারী, প্রসূতি মা, নবজাতক ও পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশু, কিশোর-কিশোরী, প্রজননক্ষম বয়সী নারী, প্রবীণ ব্যক্তি এবং প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
পর্যায়ক্রমে পিকেএসএফের অংশীদার সংগঠনগুলোর মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এ প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা হবে।
অনুষ্ঠানে অনুষ্ঠিত মুক্ত আলোচনায় অংশীদার সংগঠনগুলোর প্রধান নির্বাহী ও জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, এ কর্মসূচি বাংলাদেশের টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট (এসডিজি) অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এবং পিকেএসএফের কৌশলগত পরিকল্পনা বাস্তবায়নেও সহায়ক হবে।
