প্রধানমন্ত্রীর মালয়েশিয়া সফরে নতুন সম্ভাবনা

২৪ঘণ্টা অনলাইন: দুই দিনের সরকারি সফরে মালয়েশিয়া গেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রোববার শুরু হওয়া এই সফরকে বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া সম্পর্কের নতুন অধ্যায় হিসেবে দেখছেন সরকার ও ব্যবসায়ী মহল। প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণের পর এটি তার প্রথম দ্বিপক্ষীয় বিদেশ সফর।
সফরে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে একান্ত বৈঠক, প্রতিনিধিদল পর্যায়ের আলোচনা এবং একাধিক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে অংশ নেবেন তিনি। আলোচনায় বাণিজ্য, বিনিয়োগ, জ্বালানি, শিক্ষা, প্রযুক্তি, হালাল অর্থনীতি এবং শ্রমবাজারসহ বিভিন্ন খাতে সহযোগিতা সম্প্রসারণের বিষয় গুরুত্ব পাবে বলে জানা গেছে।
পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়াম জানিয়েছেন, সফরে প্রস্তাবিত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) নিয়ে টার্মস অব রেফারেন্স (টিওআর)-সংক্রান্ত একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের সম্ভাবনা রয়েছে। পাশাপাশি সাংস্কৃতিক সহযোগিতা নিয়েও আরেকটি সমঝোতা স্মারক সই হতে পারে।
তিনি আরও জানান, দুই দেশের সরকারপ্রধানের বৈঠকে নতুন বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগ, আসিয়ানে বাংলাদেশের সদস্যপদ, এবং রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে মালয়েশিয়ার সমর্থনের বিষয়টি উঠে আসবে।
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক অংশীদার মালয়েশিয়া বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ শ্রমবাজার। একই সঙ্গে দেশটি জ্বালানি, পাম অয়েল, শিল্প কাঁচামাল ও ভোগ্যপণ্যের গুরুত্বপূর্ণ সরবরাহকারী। অন্যদিকে বাংলাদেশ থেকে তৈরি পোশাক, ওষুধ, চামড়াজাত পণ্য ও কৃষিপণ্যের রপ্তানি সম্ভাবনা থাকলেও বাণিজ্যে এখনও বড় ঘাটতি রয়েছে।
ব্যবসায়ী সংগঠন বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (বিএমসিসিআই) সভাপতি মো. আনোয়ার শহীদ বলেন, প্রধানমন্ত্রীর এই সফর দুই দেশের সম্পর্ককে নতুন মাত্রা দেবে এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়াবে। তার মতে, দীর্ঘদিন শ্রমবাজার কেন্দ্রিক সম্পর্কের বাইরে এবার বাণিজ্য ও বিনিয়োগ খাতে নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে।
তিনি আরও বলেন, তৈরি পোশাকের পাশাপাশি কৃষিপণ্য, প্রক্রিয়াজাত খাদ্য, ওষুধ ও হালকা প্রকৌশল পণ্যের রপ্তানি বাড়ানো গেলে বাণিজ্য ঘাটতি কমবে। একই সঙ্গে দক্ষ জনশক্তি তৈরি করে প্রযুক্তি, স্বাস্থ্যসেবা ও প্রকৌশল খাতে কর্মী পাঠানো গেলে রেমিট্যান্স আয় বাড়বে।
মালয়েশিয়াপ্রবাসী ব্যবসায়ী ও বিএমসিসিআইয়ের সাবেক পরিচালক মাহবুব আলম শাহ মনে করেন, এই সফর বিনিয়োগ সম্ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তার মতে, মালয়েশিয়ার বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশের উৎপাদন, জ্বালানি, তথ্যপ্রযুক্তি ও হালাল শিল্পে আগ্রহ রয়েছে।
তিনি বলেন, বৈশ্বিক হালাল অর্থনীতিতে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ বাড়ানোর এটি উপযুক্ত সময়। পাশাপাশি শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়ন খাতে যৌথ উদ্যোগ দুই দেশের জন্যই লাভজনক হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সফরের সাফল্য নির্ভর করবে এর পরবর্তী বাস্তবায়নের ওপর। এফটিএ আলোচনা এগিয়ে নেওয়া, শ্রমবাজার সম্প্রসারণ, বিনিয়োগ সহজীকরণ এবং হালাল অর্থনীতিতে অংশীদারত্ব বাড়ানো গেলে বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে।
দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের পাঁচ দশকেরও বেশি সময় পর এই সফরকে কেবল আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক অংশীদারত্বের ভিত্তি শক্তিশালী করার একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।
