ঋণখেলাপি নিয়ে সংসদে উত্তপ্ত আলোচনা

২৪ঘণ্টা অনলাইন: জাতীয় সংসদে ঋণখেলাপি সংসদ সদস্যদের ‘ঋণখেলাপি’ হিসেবে উল্লেখ করা নিয়ে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম এ বিষয়ে আপত্তির সমালোচনা করে বলেছেন, সংসদে ঋণখেলাপিদের ঋণখেলাপি বলতে না পারলে আর কোথায় বলা হবে।
১৮ জুন জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে তিনি এসব কথা বলেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।
নাহিদ ইসলাম বলেন, সংসদে অনেক সদস্যের ঋণখেলাপির তথ্য রয়েছে, যা তিনি পূর্বেও উল্লেখ করেছেন, তবে কারও ব্যক্তিগত নাম প্রকাশ করা হয়নি। তিনি দাবি করেন, যারা ঋণখেলাপিদের মনোনয়ন দিয়ে সংসদে পাঠায়, তার দায় তাদেরই বহন করতে হবে। সংসদে যদি এমন সদস্য থাকেন, তাহলে সাধারণ মানুষের ভাষায় এই সংসদকে ‘ঋণখেলাপিদের সংসদ’ বলা অস্বাভাবিক নয়।
তিনি আরও বলেন, সংসদকে সার্বভৌম প্রতিষ্ঠান হিসেবে সম্মান জানালেও বাস্তবতা উপেক্ষা করা যাবে না। ঋণখেলাপিদের বিষয়ে সত্য উচ্চারণে বাধা থাকলে সংসদে বক্তব্য রাখার অর্থ কী—এ প্রশ্নও তোলেন তিনি।
অন্যদিকে, গাজীপুর-৫ আসনের সংসদ সদস্য ফজলুল হক মিলন বলেন, জাতীয় সংসদের মর্যাদা রক্ষা করা সবার দায়িত্ব। তার মতে, সংসদে এমন মন্তব্য করা উচিত নয়, যা প্রতিষ্ঠানটির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করে।
তিনি আরও বলেন, অবচেতন বা সচেতনভাবে এমন বক্তব্য দেওয়া উচিত নয় যা সংসদের মর্যাদাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। ঋণখেলাপিদের সংসদে অংশগ্রহণের বিষয়টি আইনগতভাবে বিবেচ্য হলেও পুরো সংসদকে এভাবে অভিহিত করা ঠিক নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।
বক্তৃতার এক পর্যায়ে তিনি একটি প্রবাদ উল্লেখ করে বলেন, নিজেরাই যদি নিজেদের মর্যাদা ক্ষুণ্ন করি, তবে তা অত্যন্ত দুঃখজনক।
এ নিয়ে সংসদে সদস্যদের মধ্যে তর্ক-বিতর্কের আবহ তৈরি হয়।
