শিক্ষার আলো পৌঁছালে বিকশিত হবে দেশের সুপ্ত প্রতিভা

২৪ঘণ্টা অনলাইন:২৪ঘণ্টা অনলাইন: দেশের প্রত্যন্ত ও অনগ্রসর অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের জন্য মানসম্মত শিক্ষা ও প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা গেলে তাদের সুপ্ত মেধার বিকাশ ঘটবে এবং ভবিষ্যতে তারা বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারবে বলে মন্তব্য করেছেন ডা. জুবাইদা রহমান।
রোববার (১৫ জুন) রাজধানীর বিএএফ শাহীন কলেজ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত ‘স্টার্টআপ, সায়েন্স প্রজেক্ট অ্যান্ড ইনোভেশন শোকেসিং’ প্রতিযোগিতার ঢাকা জেলা পর্যায়ের সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ঢাকা জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা ও উদ্ভাবনী সক্ষমতা তুলে ধরা হয়।
ডা. জুবাইদা রহমান বলেন, দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বহু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এখনও অবকাঠামোগত সংকট ও নানা সীমাবদ্ধতার মধ্যে পরিচালিত হচ্ছে। তবুও সেসব এলাকার শিক্ষার্থীরা নিজেদের মেধা, অধ্যবসায় ও সৃজনশীলতার মাধ্যমে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তাদের জন্য উপযুক্ত পরিবেশ ও সুযোগ সৃষ্টি করা গেলে জাতীয় উন্নয়নে তারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে।
তিনি পিরোজপুর, কুড়িগ্রাম, ঝালকাঠি, মুন্সিগঞ্জ, হবিগঞ্জ ও দিনাজপুরের বিভিন্ন বিদ্যালয়ের বাস্তব চিত্র তুলে ধরে বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, অবহেলা এবং অবকাঠামোগত দুর্বলতার মধ্যেও শিক্ষার্থীরা শিক্ষার প্রতি আগ্রহ হারায়নি। পাশাপাশি শিক্ষক-শিক্ষিকারাও সীমিত সুযোগ-সুবিধার মধ্যে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন।
বক্তব্যে তিনি শিক্ষার্থীদের অনুপ্রেরণার প্রসঙ্গ তুলে ধরে বলেন, দেশের অনেক জরাজীর্ণ বিদ্যালয়ের দেয়ালে জীবনের মূল্যবান বাণী লেখা রয়েছে, যা শিশু-কিশোরদের স্বপ্ন দেখতে এবং সামনে এগিয়ে যেতে উৎসাহিত করে। এসব বার্তা শুধু শিক্ষার্থীদের নয়, সমাজের সবাইকে ইতিবাচকভাবে ভাবতে শেখায়।
তিনি আরও বলেন, শিক্ষাকে কেবল পাঠ্যবইয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে আনন্দময়, বাস্তবভিত্তিক ও দক্ষতানির্ভর করে তুলতে হবে। একই সঙ্গে দলগত কাজ, নৈতিক শিক্ষা, ব্যক্তিগত দক্ষতা ও পারিবারিক মূল্যবোধের সমন্বয়ের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের দায়িত্বশীল ও আদর্শ নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
ঢাকা জেলা প্রশাসক ফরিদা খানের সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন এবং প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা ও প্রাথমিক গণশিক্ষা উপদেষ্টা মাহদী আমিন।
অনুষ্ঠান শেষে প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী ৩৭টি দলের মধ্য থেকে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন প্রধান অতিথি। প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অর্জন করে বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ পাবলিক কলেজ। দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান লাভ করে যথাক্রমে রাজউক উত্তরা মডেল কলেজ এবং হলি ক্রস কলেজ।
