বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কে অচলাবস্থা

২৪ঘন্টা অনলাইন: বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের ক্ষমতায় আসার ১০০ দিন পেরিয়ে গেলেও বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের দৃশ্যমান উন্নতি হয়নি বলে জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দু। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় ভারতের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপ এখনও বহাল থাকায় নয়াদিল্লির প্রতি সন্তুষ্ট নয় ঢাকা।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দায়িত্ব গ্রহণের আগে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর এবং পররাষ্ট্র সচিব বিক্রম মিশ্রি তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এছাড়া শপথ অনুষ্ঠানে ভারতের লোকসভার স্পিকার ওম বিরলাও অংশ নেন। তবে বিএনপির একটি প্রভাবশালী অংশ মনে করে, এসব কূটনৈতিক উদ্যোগের বাইরে সম্পর্ক উন্নয়নে ভারতের আরও বাস্তব পদক্ষেপ নেওয়া উচিত ছিল।
বিএনপির প্রত্যাশিত পদক্ষেপগুলোর মধ্যে রয়েছে— বাংলাদেশি পণ্যের ট্রান্সশিপমেন্ট সুবিধা পুনর্বহাল, ব্যবসা ও চিকিৎসা ভিসা পূর্ণমাত্রায় চালু করা এবং বাংলাদেশি পণ্যের ওপর আরোপিত বিভিন্ন বাণিজ্যিক বিধিনিষেধ প্রত্যাহার।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, শেখ হাসিনার ভারতে অবস্থানকে কেন্দ্র করে বিএনপি সরকার দুই দেশের সম্পর্ককে প্রভাবমুক্ত রাখার চেষ্টা করলেও ভারতের পক্ষ থেকে সে ধরনের ইতিবাচক সাড়া মেলেনি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এদিকে সীমান্তে কথিত ‘অবৈধ অভিবাসী’ ইস্যু এবং বাংলাদেশিদের পুশ-ইন নিয়ে ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে চলমান রাজনৈতিক বক্তব্যেও অসন্তোষ রয়েছে ঢাকার। বাংলাদেশি কূটনীতিকদের মতে, এসব ইস্যুর পরিবর্তে গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তি নবায়ন ও ভিসা সহজীকরণের মতো বিষয়গুলোতে গুরুত্ব দেওয়া উচিত।
প্রসঙ্গত, গত এপ্রিল মাসে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান ভারত সফরে গিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর ও জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভালের সঙ্গে বৈঠক করেন। তবে ওই সফরের পরও সম্পর্ক উন্নয়নে প্রত্যাশিত অগ্রগতি হয়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
