অগ্ন্যাশয় ক্যানসারে চিকিৎসার নতুন দিগন্ত

২৪ঘণ্টা অনলাইন: অগ্ন্যাশয় ক্যানসারের চিকিৎসায় নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছে ডারাক্সোনরাসিব নামের একটি পরীক্ষামূলক ওষুধ। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, উন্নত পর্যায়ের অগ্ন্যাশয় ক্যানসারে আক্রান্ত রোগীদের বেঁচে থাকার সময় উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়াতে সক্ষম এই ওষুধ।
যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগোতে অনুষ্ঠিত একটি আন্তর্জাতিক ক্যানসার সম্মেলনে গবেষণার ফলাফল প্রকাশ করা হয়। সেখানে বিশেষজ্ঞরা একে অগ্ন্যাশয় ক্যানসার চিকিৎসায় সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
অগ্ন্যাশয় ক্যানসারকে সবচেয়ে জটিল ও প্রাণঘাতী ক্যানসারগুলোর একটি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। অধিকাংশ ক্ষেত্রে রোগটি দেরিতে ধরা পড়ায় চিকিৎসার সুযোগ সীমিত হয়ে যায় এবং ক্যানসার দ্রুত শরীরের অন্যান্য অংশে ছড়িয়ে পড়ে।
গবেষণায় প্রায় ৫০০ রোগীর ওপর ডারাক্সোনরাসিবের কার্যকারিতা পরীক্ষা করা হয়। এতে দেখা যায়, যেসব রোগীর ক্যানসার শরীরের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে পড়েছিল, তারা গড়ে ১৩ মাসেরও বেশি সময় বেঁচে ছিলেন। তুলনায় প্রচলিত কেমোথেরাপি গ্রহণকারী রোগীদের গড় বেঁচে থাকার সময় ছিল প্রায় ছয় মাস।
গবেষকরা জানিয়েছেন, ওষুধটির একটি বড় সুবিধা হলো এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া তুলনামূলকভাবে কম। ফলে রোগীরা চিকিৎসার সময়ও অপেক্ষাকৃত স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারেন।
ডারাক্সোনরাসিব মূলত ‘ক্রাস’ নামের একটি প্রোটিনকে লক্ষ্য করে কাজ করে। অগ্ন্যাশয় ক্যানসারের অধিকাংশ ক্ষেত্রে এই জিনের পরিবর্তন বা মিউটেশন ক্যানসার কোষের দ্রুত বৃদ্ধি ও বিস্তারে ভূমিকা রাখে। নতুন ওষুধটি সেই প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করে রোগের অগ্রগতি ধীর করতে সাহায্য করে।
গবেষকদের মতে, ক্রাস জিনের বিভিন্ন ধরনের মিউটেশনের ক্ষেত্রেও ডারাক্সোনরাসিব কার্যকর হতে পারে। ফলে এটি ভবিষ্যতে অগ্ন্যাশয় ক্যানসারের চিকিৎসায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
যুক্তরাজ্যভিত্তিক প্যানক্রিয়াটিক ক্যানসার অ্যাকশনের প্রধান নির্বাহী পলা হ্যানফোর্ড বলেন, অগ্ন্যাশয় ক্যানসারের চিকিৎসায় এটি তার দেখা সবচেয়ে আশাব্যঞ্জক অগ্রগতিগুলোর একটি। দীর্ঘদিন ধরে সীমিত চিকিৎসা-সুবিধার মধ্যে থাকা রোগীদের জন্য এ গবেষণা নতুন সম্ভাবনার বার্তা দিচ্ছে।
প্যানক্রিয়াটিক ক্যানসার ইউকের গবেষণা ও উদ্ভাবন বিভাগের পরিচালক অ্যানা জুয়েলও একই ধরনের আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। তার মতে, এই ওষুধ রোগীদের জীবনে মূল্যবান অতিরিক্ত সময় যোগ করতে পারে এবং পরিবার-পরিজনের সঙ্গে আরও কিছু সময় কাটানোর সুযোগ এনে দিতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা আরও জানিয়েছেন, ‘ক্রাস’ জিন শুধু অগ্ন্যাশয় ক্যানসার নয়, ফুসফুস, কোলনসহ আরও বিভিন্ন ধরনের ক্যানসারের সঙ্গেও জড়িত। ফলে ডারাক্সোনরাসিব নিয়ে পাওয়া ইতিবাচক ফলাফল ভবিষ্যতে অন্যান্য ক্যানসারের চিকিৎসায়ও নতুন সম্ভাবনার পথ তৈরি করতে পারে।
