নাগার দাবী সামান্থাকে ঠকাননি অথচ...

২৪ঘণ্টা অনলাইন : দক্ষিণী তারকা নাগা চৈতন্য এবার সোশ্যাল মিডিয়ায় ট্রোলার এবং ভুয়ো খবর ছড়ানোর মাস্টারমাইন্ডদের বিরুদ্ধে বড়সড় আইনি লড়াই শুরু করলেন। নিজের নাম, ছবি এবং ব্যক্তিত্বের অধিকার বা পার্সোনালিটি রাইটস রক্ষার দাবিতে দিল্লি হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন অভিনেতা। অনুমতি ছাড়া তাঁর পরিচয় ব্যবহার করে বাণিজ্যিক লাভ করা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির অপব্যবহার করে আপত্তিকর কন্টেন্ট তৈরি করা এবং প্রাক্তন স্ত্রী সামান্থা রুথ প্রভুর সঙ্গে তাঁর অতীত সম্পর্ক নিয়ে কুৎসা ছড়ানোর বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ করলেন নাগা।
আদালতে দাখিল করা আবেদনে নাগা চৈতন্যের আইনি দল বিশেষ ভাবে উল্লেখ করেছে দিনের পর দিন ধরে তাঁর ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে চলা নোংরা ট্রোলিংয়ের কথা। ডিভোর্সের পর থেকেই সোশ্যাল মিডিয়ার একাংশ এবং বিভিন্ন ওয়েবসাইট লাগাতার দাবি করে আসছিল যে, চৈতন্য নাকি সামান্থাকে ঠকিয়েছেন এবং তিনিই অভিনেত্রীর কেরিয়ার ধ্বংসের জন্য দায়ী।
আদালতে চৈতন্যের আইনজীবী বৈভব গগ্গড় বলেন, ‘এটি কোনও সুস্থ বা ন্যায়সংগত সমালোচনা নয়, এটি আদ্যোপান্ত একটি পরিকল্পিত ট্রোলিং এবং মানহানিকর অপপ্রচার। এই ধরণের ভুয়ো পোস্ট এবং ভিডিয়োর মাধ্যমে আমার মক্কেলের সামাজিক সম্মান ধুলোয় মিশিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।’
মামলার শুনানির সময় বিচারপতি জ্যোতি সিংয়ের এজলাসে অভিনেতার আইনজীবী আরও এক চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ্যে আনেন। তিনি জানান, একাধিক চটুল ওয়েবসাইট নাগা চৈতন্যের নাম এবং ছবি ব্যবহার করে অত্যন্ত আপত্তিকর, প্রাপ্তবয়স্কদের উপযোগী সার্চ টার্ম তৈরি করছে, যাতে তাদের ওয়েবসাইটে ট্রাফিক বা ভিউয়ারশিপ বাড়ানো যায়। শুধু তাই নয়, চৈতন্যের অনুমতি ছাড়াই তাঁর মুখাবয়ব ব্যবহার করে এআই-জেনারেটেড ভুয়ো ছবি ও লাইসেন্সহীন মার্চেন্ডাইজ় (টি-শার্ট, ক্যাপ ইত্যাদি) বাজারে বিক্রি করে মুনাফা লুটছে।
অমিতাভ বচ্চন, অনিল কাপুর বা জ্যাকি শ্রফের মতো বলিউড তারকাদের পর এবার দক্ষিণী ইন্ডাস্ট্রি থেকেও নাগা চৈতন্য নিজের ব্যক্তিত্বের অধিকার বা পাবলিসিটি রাইটস রক্ষার জন্য আইনি পথে হাঁটলেন। এর ফলে কোনও তৃতীয় পক্ষ আদালতের অনুমতি ছাড়া চৈতন্যের নাম, কণ্ঠস্বর, ছবি বা স্টাইল বাণিজ্যিক স্বার্থে ব্যবহার করতে পারবে না। দিল্লি হাইকোর্ট আপাতত অভিনেতার এই আর্জি খতিয়ে দেখছে এবং কোন কোন ক্ষেত্রে তাঁকে সুরক্ষা দেওয়া যায়, তা বিবেচনা করছে। মামলার পরবর্তী শুনানি স্থির হয়েছে আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর।
